কমিক্‌স সম্ভার — তিয়ুদাদ ~ ওয়াচমেন ~ ফ্যান্টম ~ টিনটিন ~ কুইক ও ফ্লাপকে ~ পেপি ~ ব্যাটম্যান ~ সুপারম্যান ~ হাল্ক ~ জেমস বন্ড ~ ডেথ নোট ~ মিলো মানারা ~ দ্য মমি ~ দ্য থিং ~ ব্লেয়ার উইচ ~ আগাথা ক্রিস্টি ~ এডগার অ্যালান পো
Showing posts with label জুরাসিক পার্ক. Show all posts
Showing posts with label জুরাসিক পার্ক. Show all posts

Saturday, November 3, 2018

Jurassic Park by MIchael Crichton (Translated in Bengali; Episode 10)

জুরাসিক পার্ক – মাইকেল ক্রিকটন (বাংলা অনুবাদ; পর্ব ১০)


স্লথ কি পাখির মতো কিচিরমিচির করে আওয়াজ করে? টিনার মনে হল, না, কিন্তু ও পুরোপুরি নিশ্চিতও ছিল না। এটা নিশ্চয়ই কিছু সামুদ্রিক পাখির কিচিরমিচির আওয়াজ। ও শান্ত স্থির হয়ে দাঁড়াল, খসখস আওয়াজটা আবার শুনতে পেল। তারপরে কয়েক গজ দূরে আওয়াজটার উৎস দেখতে পেল। একটা সরীসৃপ ম্যানগ্রোভের ঝোপটা থেকে বেরিয়ে এসে ওর দিকে তাকিয়ে আছে।
টিনার মনটা আনন্দে ভরে গেল। লিস্টে লেখার জন্য একটা নতুন প্রাণী ! সরীসৃপটা ওর মোটা লেজ আর পিছনের দু’পায়ের উপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে ওর দিকে তাকিয়ে আছে। প্রাণীটা দাঁড়ানো অবস্থায় প্রায় এক ফুটের মতো লম্বা, গায়ের রং কালচে সবুজ, পিঠে কালো কালো ডোরাকাটা দাগ। সামনের খুবই ছোট পা দু’টো ছোট ছোট আঙুলে এসে শেষ হয়েছে যেগুলো হাওয়ায় দুলছে। সরীসৃপটা মাথাটা বেকিয়ে এমন ভাবে টিনার দিকে তাকাল যেন মনে হয় ওকে খুব ভাল করে দেখছে।
টিনা ভাবল খুব সুন্দর তো। অনেকটা একটা বড় স্যালাম্যান্ডার-এর (Salamander) মতো দেখতে। ও হাত বাড়িয়ে ওটার আঙুলগুলো একটু নেড়ে দিল।
স্যালাম্যান্ডার
সরীসৃপটা কিন্তু ভয় পেল না। পিছনের পায়ের উপর ভর দিয়ে হেঁটে ওর সামনে এসে দাঁড়াল। প্রায় একটা মুরগির মতো বড়, আর একটা মুরগির মতোই চলার সময় মাথাটা দোলাচ্ছে। টিনা ভাবল এটা দারুণ একটা পোষার জিনিস হবে।
ও লক্ষ্য করল এই সরীসৃপটারই পায়ের ছাপ সেই তিন আঙুলওয়ালা পায়ের ছাপ, যেটাকে কিছুক্ষণ আগে ওর পাখির পায়ের ছাপ বলে মনে হয়েছিল। সরীসৃপটা টিনার কাছে এগিয়ে এল। টিনা স্থির হয়ে দাঁড়িয়েছিল, ও এই ছোট প্রাণীটাকে ভয় পাওয়াতে চাইছিল না। এটা দেখে ও খুবই অবাক হল যে প্রাণীটা ওর একেবারে কাছে চলে এসেছে, কিন্তু ওর মাথায় ছিল যে এটা একটা ন্যাশনাল পার্ক। সাধারণত, একটা পার্কের সমস্ত প্রাণীদেরই জানা থাকে যে তারা পার্কের মধ্যে সুরক্ষিত এবং নিরাপদ থাকবে। এই সরীসৃপটা হয়তো কারোর পোষা। হয়তো এটা এ-ও ভাবছে যে ওকে কিছু খাবার দেওয়া হবে। দুর্ভাগ্যবশত টিনার কাছে কোনও খাবার ছিল না। ওর কাছে যে কোনও খাবার নেই সেটা দেখানোর জন্য টিনা প্রাণীটার দিকে ওর হাতের মুঠোটা খুলে দেখাল।
সরীসৃপটা থমকে দাঁড়াল, মাথাটা দোলাতে লাগল, আর কিচিরমিচিরের মতো আওয়াজ করতে লাগল।
“সরি,” টিনা বলল। “আমার কাছে কিছুই নেই।”
আর তারপরেই, কোনওরকম পূর্বাভাস ছাড়াই, সরীসৃপটা ওর সামনের দিকে বাড়িয়ে রাখা হাতের উপর লাফ দিয়ে উঠল। টিনা অনুভব করল ওটার ছোট ছোট আঙুলগুলো ওর হাতের তালুর চামড়ায় ফুটে যাচ্ছে, আর সাথে সাথে এটাও অনুভব করল এই ছোট প্রাণীটার অস্বাভাবিক ওজন ওর হাতটাকে যেন চাপ দিয়ে নীচের দিকে নামিয়ে দিচ্ছে।
আর তারপরে সরীসৃপটা যেন হামাগুড়ি দেওয়ার মতো করে বেয়ে বেয়ে হাত থেকে ওর মুখের দিকে এগোতে লাগল।

“আমি শুধু এটাই চাই যে ওকে যেন খুঁজে পাওয়া যায়,” এ্যলেন রোদের তাপে ভ্রূকুটি করে কথাটা বলল। “ব্যস, এই, শুধু যেন ওকে দেখতে পাই।”
“আমি পুরো নিশ্চিত যে ও ঠিকই আছে,” হোটেল থেকে দেওয়া লাঞ্চবক্সগুলো খুলতে খুলতে মাইক কথাটা বলল। লাঞ্চবক্সে অরুচি ধরানো গ্রিলড্‌ চিকেন, আর মাংস-ভর্তি এক ধরনের পেস্ট্রি দেওয়া রয়েছে। এগুলো দেখে এ্যলেন না আবার খিটখিট করতে থাকে।
“তোমার কি মনে হচ্ছে না যে ও বিচ ছেড়ে অন্য কোথাও গেছে?” এ্যলেন জিজ্ঞেস করল।
“না, হানি, মনে তো হয় না।”
“আমার এই জায়গাটা খুব নির্জন বলে মনে হচ্ছে,” এ্যলেন বলল।
“আমি ভেবেছিলাম তুমি এরকম একটা জায়গাতেই ছুটিটা কাটাতে চেয়েছিলে,” মাইক বলল।
“চেয়েছিলাম।”
“বেশ, তাহলে, সমস্যাটা কোথায়?”
“আমি শুধু আমার মেয়েকে দেখতে চাই, ব্যস, এই,” এ্যলেন বলল।
তখনই, সৈকতের দিক থেকে ভেসে আসা হাওয়ায় ওরা ওদের মেয়ের গলার আওয়াজ শুনতে পেল। ও চিৎকার করছে।
ক্রমশ...

Friday, November 2, 2018

Jurassic Park by Michael Crichton (Translated in Bengali; Episode 09)

জুরাসিক পার্ক – মাইকেল ক্রিকটন (বাংলা অনুবাদ; পর্ব ৯)


“এই,” টিনা যেন কিছু একটা খুঁজে পেয়েছে। “এই গাইডবুকটায় লেখা আছে যে কাবো ব্ল্যাঙ্কোর বিচগুলোতে অনেক ধরনের জন্তুজানোয়ারের সমাহার রয়েছে, যেমন হাউলার আর হোয়াইট-ফেসড্‌ মাঙ্কি (White-faced Monkey), থ্রী-টোড্‌ স্লথ্‌ (Three-toed Sloth), আর কোয়াটিমান্ডিস্‌ (Coatimundis)। তোমার কি মনে হয় আমরা থ্রী-টোড্‌ স্লথ্‌ দেখতে পাব, বাবা?”
“আমি বাজি ধরে বলতে পারি পাব।”
“সত্যি?”
“শুধু আয়নাটার দিকে একবার তাকাও।”
“তুমিও না, বাবা।”
সামনের রাস্তাটা জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে ঢালু হয়ে সমুদ্রের দিকে নেমে গেছে।


থ্রি-টোড স্লথ
হোয়াইট-ফেসড্‌ মাঙ্কি
কোয়াটিমান্ডিস




শেষমেশ যখন ওরা সমুদ্র সৈকতটায় এসে পৌঁছল মাইকের নিজেকে নায়ক বলে মনে হচ্ছিল; দু’মাইল জুড়ে এক ফালি চাঁদের মতো সাদা বালির একটা বেলাভূমি পুরো ফাঁকা। ও ল্যান্ড রোভারটাকে তালগাছগুলোর ছায়ায়, যেগুলো এই সৈকতটাকে ছাতার মতো ঢেকে রেখেছে, সেখানে পার্ক করল। তারপরে লাঞ্চবক্সগুলো বের করে আনল। এ্যলেন স্যুইম্ স্যুট্‌ পরতে পরতে বলল, “সত্যি, কী করে যে আমার ওজনটা কমাব ভেবেই পাচ্ছি না।”
“তোমাকে দারুণ দেখতে লাগছে, হানি।” আসলে মাইকের মনে হচ্ছিল যে এ্যলেন বেশ ভালই রোগা, কিন্তু ও পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে শিখে গিয়েছিল যে এ-কথা বলতে নেই।
টিনা এর মধ্যেই সৈকতের মধ্যে দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দিয়েছে।
“সানস্ক্রিন লাগাতে ভুলে যেয়ো না,” এ্যলেন বলে উঠল।
“পরে,” টিনা মাথাটা ঘুরিয়ে চেঁচিয়ে বলল। “আমি দেখতে যাচ্ছি যদি এখানে কোনও স্লথ্‌ থেকে থাকে তো।”
এ্যলেন বোম্যান সৈকতটা আর গাছগুলোর দিকে একবার ভাল করে দেখে বলল, “তোমার কী মনে হয়, ও একা একা গেলে কোনও কিছু হবে না তো?”
“হানি, এক মাইলের মধ্যেও কেউ নেই,” মাইক বলল।
“সাপখোপ থাকে যদি?”
“ওহ্‌, ভগবানের নামে,” মাইক বলে উঠল। “বিচে কখনও সাপ থাকে না।”
“বেশ, কিন্তু এখানে তো থাকতে পারে...”
“হানি,” মাইক বলল। “সাপেদের রক্ত ঠাণ্ডা হয়। ওরা সরীসৃপ। ওরা নিজেদের শরীরের তাপমাত্রা ঠিকঠাক ধরে রাখতে পারে না। ওই বালির তাপমাত্রা প্রায় নব্বই ডিগ্রী হয়ে রয়েছে। যদি একটা সাপ থেকেও থাকে তাহলে সেটা সেদ্ধ হয়ে যাবে। বিশ্বাস করো। বিচে কোনও সাপ নেই।” ও দেখল টিনা খুব জোরে সৈকতের দিকে দৌড়ে যাচ্ছে, ওকে দেখে মনে হচ্ছে যেন সাদা বালিতে একটা কালো বিন্দু নড়াচড়া করছে। “ওকে যেতে দাও। একটু আনন্দ করতে দাও।”
মাইক তার স্ত্রী'র কোমরে হাতটা রাখল।

টিনা ক্লান্ত না হওয়া অবধি দৌড়তে লাগল, তারপরে বালিতে গড়াগড়ি দিয়ে খুব আনন্দের সাথে জলের দিকে গড়াতে শুরু করল। সুমদ্রের জলটা উষ্ণ, জল থেকে খুবই কম ফেনা তৈরি হচ্ছে। ও জোরে জোরে শ্বাস নিতে নিতে কিছুক্ষণ বসে থাকল, কত দূর এসেছে জানার জন্য পিছনে তাকিয়ে বাবা-মা আর গাড়িটাকে খুঁজল।
ওর মা ওকে হাত নেড়ে ফিরে আসার ইশারা করছে। টিনা হাসতে হাসতে হাত নাড়ল, এমন ভাণ করল যেন ও কিছু বুঝতে পারছে না। আসলে টিনা সানস্ক্রিন মাখতে চাইছিল না। আর ফিরে গিয়ে ওর মা'র ওজন কমানোর ঘ্যানঘ্যানানিও শুনতে চাইছিল না। এখানেই বসে থাকতে চাইছিল, হয়তো তাতে একটা স্লথ্‌ও দেখা যেতে পারে।
টিনা দু’দিন আগে স্যান জোস-এর চিড়িয়াখানায় একটা স্লথ্‌ দেখেছে। ওটাকে দেখে একটা সঙের মতো মনে হচ্ছিল, আর ক্ষতিকর বলেও মনে হচ্ছিল না। কোনওরকম ভাবে, ওটা খুব একটা জোরে দৌড়াতে না পারলে; ও খুব সহজেই ওটাকে প্রতিযোগিতায় হারিয়ে দেবে।
এবার ওর মা ওকে ডাকতে শুরু করল। টিনা ঠিক করল রোদের তাপ আর জল থেকে উঠে গিয়ে ওই তালগাছগুলোর ছায়ার নীচে যাবে। সৈকতের এদিকটায়, তালগাছগুলো জড়ামড়ি করে থাকা ম্যানগ্রোভ গাছের মূলগুলোর দিকে হেলে পড়েছে, যাতে ভিতরের জায়গাটা বাইরে থেকে আসা যে-কোনও আক্রমণের হাত থেকে সুরক্ষিত রয়েছে। টিনা বালিতে বসে পড়ে গাছের শুকনো ঝরা পাতাগুলোকে লাথি মারতে লাগল। এমন সময় ও বালির উপরে পাখি হাঁটলে যেরকম দাগ হয় সেরকম অনেকগুলো দাগ লক্ষ্য করল। কোস্টা রিকা এখানকার পাখির জন্য বিখ্যাত। গাইডবুক বলছে কোস্টা রিকা-য় আমেরিকা ও কানাডার তিনগুণ বেশি পাখি রয়েছে।
বালিতে কোনও এক ধরনের তিন আঙুলওয়ালা পাখির ছোট ছোট কিছু পায়ের ছাপ পড়েছে যেগুলো এতটাই অস্পষ্ট হয়ে গেছে যে কষ্ট করে দেখতে হচ্ছে। আবার কিছু পায়ের ছাপ বড়, যেগুলো বালিতে যেন কেটে বসে গেছে। টিনা অলস ভাবে পায়ের ছাপগুলো দেখছিল, হঠাৎ ম্যানগ্রোভের ঝোপটা থেকে ও পাখির কিচিরমিচিরের মতো আর তার সাথে একটা খসখস আওয়াজ শুনতে পেল।
ক্রমশ…

Jurassic Park by Michael Crichton (Translated in Bengali; Episode 08)

জুরাসিক পার্ক – মাইকেল ক্রিকটন (বাংলা অনুবাদ; পর্ব ৮)

প্রথম পুনরাবৃত্তি

“সম্প্রতি আঁকা কিছু ফ্র্যাক্টাল১ কার্ভ২-এ, গণিতশাস্ত্রের গঠনের মূলগত বেশ কিছু সূত্র দেখা যাবে।” —ইয়ান ম্যালকম। [১Fractal—ফ্র্যাক্টাল হল একটি সাধারণ ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তু বা ব্যাপার অথবা একটি গাণিতিক বিন্যাস যেটি বারংবার হতে থাকা এমন একটি নকশা যা প্রত্যেকটি ক্রমপর্যায়াঙ্কিত মাপকে দেখায়, ২Curve—বক্ররেখা]

প্রায় স্বর্গ

মাইক বোম্যান কোস্টা রিকা-র পশ্চিম উপকূলের কাবো ব্ল্যাঙ্কো (Cabo Blanco) বায়োলজিক্যাল রিজার্ভ*-এর মধ্যে দিয়ে মনের আনন্দে শিষ দিতে দিতে ল্যান্ড রোভার গাড়িটা চালাচ্ছিল। জুলাই মাসের সুন্দর একটা সকাল, সামনের রাস্তাটা খুবই সুন্দর আর সুবিন্যস্ত হয়ে আছে; মনে হচ্ছে যেন পাহাড়ের খাড়াইয়ের প্রান্তে জড়াজড়ি করে রয়েছে, এত উঁচু থেকে জঙ্গল প্রায় দেখাই যাচ্ছে না, সামনে শুধুই নীল জলরাশি। গাইডবুক অনুসারে, কাবো ব্ল্যাঙ্কো সভ্য মানুষের পা পড়ে নষ্ট হয়ে যাওয়া বনভূমি নয়, প্রায় স্বর্গের মতোই একটা জায়গা। বোম্যান এখন এই জায়গাটা দেখে মনে মনে ভাবল ছুটিটা বেশ ভালই জমবে। *[Biological reserve—জীববিজ্ঞানের জন্য সংরক্ষিত ভূমি]
বোম্যান, ছত্রিশ বছর বয়সি ডালাসের এক রিয়াল এস্টেট ডেভেলপার, স্ত্রী আর মেয়েকে নিয়ে কোস্টা রিকা-য় দু’-সপ্তাহের ছুটি কাটাতে এসেছে। এখানে ঘুরতে আসার পরিকল্পনাটা আসলে ওর স্ত্রী'র; কয়েক সপ্তাহ ধরেই এ্যলেন ওকে কোস্টা রিকা-র এই সুন্দর ন্যাশনাল পার্কের কথা বলে আসছে, আর বলেছে যে এতে টিনাও খুব খুশি হবে। তারপর যখন ওরা এখানে এল, মাইক আবিষ্কার করল যে এ্যলেনের স্যান জোস-এ একজন প্ল্যাস্টিক সার্জেনের কাছে অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে। তখনই প্রথম মাইক কোস্টা রিকা-র সস্তা আর চমৎকার প্ল্যাস্টিক সার্জারির ব্যাপারটা এবং স্যান জোস-এর সমস্ত বিলাসবহুল ক্লিনিকগুলোর কথা জানতে পারল।
অবশ্যই ওদের মধ্যে এই নিয়ে বেশ ভালই কথা কাটাকাটি হয়েছিল, মাইকের মনে হয়েছিল যে এ্যলেন আগেও ওকে মিথ্যা কথা বলেছে আর এখনও বলে যাচ্ছে। মাইক এই প্ল্যাস্টিক সার্জারির ব্যাপারটা একেবারে বাতিল করে দিল। যাই হোক, এটা খুবই একটা হাস্যকর ব্যাপার, কেননা এ্যলেনের বয়স মাত্র তিরিশ আর সে প্রকৃতই সুন্দরী। রাইস-এর (Rice) সিনিয়র ইয়ারে ওকে ওখানকার কুইন বলে ডাকা হতো, আর সেটাও খুব বেশি হলে মাত্র বছর দশেক আগেকার ঘটনা। কিন্তু এ্যলেনের নিজেকে আর খুব একটা সুন্দরী বলে মনে হচ্ছিল না, তাই নিয়ে ও খুব চিন্তিত হয়ে পড়েছিল। আর সম্প্রতি কয়েক বছর ধরে ও নিজের সৌন্দর্য হারিয়ে যাচ্ছে ভেবেই বেশি চিন্তা করেছে।
শুধু ওই ব্যাপারটাই, আর কিছু নিয়ে নয়।
ল্যান্ড রোভারটা একটা গাড্ডায় পড়ে কিছুটা কাদা ছিটিয়ে দিল। এ্যলেন মাইকের পাশে বসেছিল, বলল, “মাইক, তুমি কি শিয়োর যে তুমি ঠিক রাস্তায় যাচ্ছ? একঘণ্টা হয়ে গেল একটা লোকও তো দেখতে পাওয়া গেল না।”
“পনেরো মিনিট আগেই একটা গাড়ি আমাদের পাশ দিয়ে গেছে,” মাইক ওকে মনে করিয়ে দিল। “মনে আছে, একটা নীল রঙের গাড়ি?”
“ওটা তো অন্য দিকে গেল...”
“ডার্লিং, তুমি একটা ফাঁকা সী-বিচে ছুটিটা কাটাতে চেয়েছিলে,” মাইক বলল, “আর তুমি ঠিক সেটাই পেতে চলেছ।”
এ্যলেন একটু কিন্তু কিন্তু করে মাথাটা নাড়ল। “আশা করি তোমার কথাই যেন ঠিক হয়।”
“হ্যাঁ, বাবা, আশা করি তোমার কথাই যেন ঠিক হয়,” পিছনের সিট থেকে ওদের আট বছর বয়সি মেয়ে ক্রিস্টিনা কথাটা বলে উঠল।
“বিশ্বাস করো, আমি ঠিকই যাচ্ছি।” এক মুহূর্ত চুপ থেকে মাইক কথাটা বলল। “জায়গাটা খুব সুন্দর, তাই না? চারদিকে তাকাও। কত সুন্দর।”
“ঠিক আছে,” টিনা বলল।
এ্যলেন একটা কম্প্যাক্ট (Compact) বের করে আয়নার দিকে তাকিয়ে সেটাকে ওর চোখের তলায় লাগাচ্ছিল। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ও কম্প্যাক্টটাকে আবার ব্যাগের ভিতরে রেখে দিল।
রাস্তাটা এবার ঢালু হয়ে নেমে গেছে, মাইক গাড়ি চালানোতে একটু বেশি করে মন দিল। হঠাৎ একটা কালো রঙের ছোট কিছু সামনের রাস্তাটা পেরোতেই টিনা চিৎকার করে উঠল, “দ্যাখো ! দ্যাখো !” ততক্ষণে জিনিসটা জঙ্গলের মধ্যে ঢুকে গেছে।
“কী ছিল ওটা?” এ্যলেন জিজ্ঞেস করল। “বাঁদর?”
“হয়তো একটা স্কুইরেল মাঙ্কি (Squirrel Monkey) হবে,” মাইক বলল।
“এটা কি লিখে রাখব?” টিনা পেন্সিল বের করে বলল, ও স্কুলের একটা প্রোজেক্টের জন্য এই ট্রিপটায় কী কী পশুপাখি দেখেছে সেটার একটা লিস্ট বানাচ্ছে।
“ঠিক জানি না,” মাইক একটু ইতস্তত করে বলল।
টিনা গাইডবুক বের করে তাতে দেওয়া জন্তুজানোয়ারের ছবিগুলো দেখছিল। বলল, “আমার মনে হয় না ওটা কোনও স্কুইরেল মাঙ্কি ছিল, মনে হয় আরেকটা হাউলার।” ওরা এই ট্রিপটায় এর মধ্যেই অনেকগুলো হাউলার মাঙ্কি (Howler Monkey) দেখেছে।
                                                                                                        ক্রমশ...
স্কুইরেল মাঙ্কি
হাউলার মাঙ্কি

Thursday, November 1, 2018

Jurassic Park by Michael Crichton (Translated in Bengali; Episode 07)

জুরাসিক পার্ক – মাইকেল ক্রিকটন (বাংলা অনুবাদ; পর্ব ৭)

ববি ম্যানুয়েলকে কাজ করার জন্য ফিরে আসার হুকুম করল, এরই মধ্যে ওই আহত যুবক ছেলেটি চোখ খুলল আর সোজা টেবিলের উপরে উঠে বসল। ম্যানুয়েল আতঙ্কে চিৎকার করে উঠল। আহত ছেলেটি উঠে বসে জোরে জোরে ডান দিকে বাঁদিকে মাথা দোলাতে লাগল আর বিলাপ করতে থাকল, আর তারপরেই বিস্ফোরকের মতো রক্তবমি করতে লাগল। তৎক্ষণাৎ ওর একটা কনভালশন* হয়ে গেল, সারা দেহটা প্রচণ্ড ভাবে কাঁপতে লাগল। ববি ওকে ধরতে গেল কিন্তু ও তার আগেই টেবিল থেকে মেঝের উপরে পড়ে গেল। আবার বমি করল। চারদিক রক্তে ভেসে গেল। এমন সময় এড দরজাটা খুলে ভিতরে ঢুকে জিজ্ঞেস করে উঠল, “এখানে হচ্ছেটা কী?” বলে যখন ওর রক্তের দিকে চোখ গেল, ও মুখ চাপা দিয়ে বাইরে বেরিয়ে গেল। ববি একটা লাঠি নিয়ে ছেলেটার আটকে যাওয়া চোয়ালের মধ্যে ঢোকানোর চেষ্টা করছিল, কিন্তু ও ভাল করেই বুঝতে পারছিল যে সেটা করা বৃথা। শেষে পক্ষাঘাতের মতো একটা ঝাঁকুনি দিয়ে ছেলেটা শান্ত হয়ে গিয়ে স্থির হয়ে শুয়ে পড়ল। *[Convulsion—শরীরের প্রচণ্ড আলোড়ন]
ববি ছেলেটিকে মাউথ-টু-মাউথ* দিতে যাচ্ছিল, কিন্তু ম্যানুয়েল জোরে ওর কাঁধটা খামচে ধরে পিছনে টেনে আনল। “না,” ম্যানুয়েল বলল। “তাহলে হুপিয়া তোমার মধ্যে ঢুকে যাবে।” *[Mouth-to-mouth—মুখের মধ্যে শ্বাস দেওয়া; এটি শ্বাসপ্রশ্বাস ফিরিয়ে আনার একটি পদ্ধতি]
“ম্যানুয়েল, ভগবানের নামে—”
“না।” ম্যানুয়েল ববির দিকে ভয়ংকর ভাবে তাকাল। “না। তুমি এসব জিনিস বুঝতে পারবে না।”
ববি মেঝেতে পড়ে থাকা দেহটার দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারল এখন আর কিছুতেই কিছু যায় আসে না; ছেলেটিকে বাঁচানোর আর কোনও সম্ভাবনাই নেই। ম্যানুয়েল বাইরের লোকগুলোকে ডাকল। ওরা ভিতরে এসে দেহটাকে নিয়ে চলে গেল। এডকে দেখা গেল হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে মুখ মুছছে, ও অস্পষ্ট ভাবে বলল, “আমি নিশ্চিত আপনারা যতটুকু পেরেছেন করেছেন।” কিছুক্ষণ পরে ববি দেখল লোকগুলো দেহটা নিয়ে গিয়ে হেলিকপ্টারটায় তুলছে। তার কিছুক্ষণ পরেই হেলিকপ্টারটা বাজ পড়ার মতো আওয়াজ করতে করতে আকাশে মিলিয়ে গেল।
“এই ভাল হয়েছে,” ম্যানুয়েল বলে উঠল।
ববি ওই ছেলেটার হাত দু’টোর কথা ভাবছিল। হাত দু’টোতে কাটা আর থেঁতলানোর দাগে ভর্তি ছিল, কোনও আক্রমণকে আড়াল করতে গেলে হাতে যেরকম আঘাত লাগে সেরকম আঘাত। ও পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে গেল যে ওই ছেলেটার কনস্ট্র্যাকশন দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়নি; ওকে আক্রমণ করা হয়েছিল, আর ও ওর নিজের হাত দু’টো দিয়ে ওর আক্রমণকারীর আক্রমণকে বাঁধা দিচ্ছিল। “ওরা যেখান থেকে এসেছিল সেই দ্বীপটা কোথায়?” ও ম্যানুয়েলকে জিজ্ঞেস করল।
“সমুদ্রের ওদিকটায়, উপকূলটা থেকে প্রায় একশো, কিংবা একশো কুড়ি মাইল ভিতরে হবে।”
“একটা রিসর্টের জন্য দূরত্বটা খুবই বেশি,” ববি বলল।
ম্যানুয়েল হেলিকপ্টারটাকে দেখছিল। “আশা করি ওরা আর ফিরে আসবে না।”
বেশ, ববি ভাবল, অন্তত ওর কাছে ছবিগুলো তো রয়েছে। কিন্তু যখন ও টেবিলের দিকে তাকাল, দেখল ক্যামেরাটা সেখানে নেই।

শেষপর্যন্ত ওই দিন রাতের দিকে বৃষ্টিটা একটু থামল। ক্লিনিকের পিছন দিকে ববি ওর বেডরুমে বসে পেপারব্যাক স্প্যানিশ ডিকশনারিটার একটা পৃষ্ঠায় আঙুল দিয়ে রেখেছিল। ওই ছেলেটা বলেছিল “র‍্যাপ্টর,” আর, ম্যানুয়েলের কথাগুলো বাদ দিয়ে ওর মনে হল ওটা একটা স্প্যানিশ শব্দ। ও ডিকশনারিতে শব্দটা খুঁজে পেল। যার মানে হল “র‍্যাভিশার১” অথবা “অ্যাবডাক্টর২।” [১Ravisher—হরণকারী, ২Abductor—অপহরণকারী]
এটা পড়ে ও থমকে গেল। শব্দটার মানে খুবই সন্দেহজনক ভাবে হুপিয়ার মানের কাছাকাছি দাঁড়ায়। অবশ্যই ও কুসংস্কারে বিশ্বাস করে না। আর কোনও ভূতও ওই ছেলেটার হাতে কাটা দাগগুলো করে দেয়নি। তাহলে ছেলেটা ওকে কী বলতে চাইছিল?
পাশের ঘর থেকে ও একটা আর্তনাদ শুনতে পেল। গ্রামের এক মহিলা প্রসব যন্ত্রণার প্রথম ধাপে রয়েছে, স্থানীয় ধাত্রী ইলিনা ম্যোরালেস ওর দেখাশোনা করছে। ববি ক্লিনিক রুমের দিকে গিয়ে ইলিনাকে কয়েক মুহূর্তের জন্য একটু বাইরে আসার ইশারা করল।
“ইলিনা...”
“ইয়েস, ডক্টর?”
“ইলিনা তুমি কি জানো র‍্যাপ্টর কী জিনিস?”
ইলিনা এক ষাট বছরের পাকা চুলওয়ালা বুড়ি, কিন্তু বাস্তব-বুদ্ধিসম্পন্ন মহিলা, কোনও বুজরুকিতে বিশ্বাস করে না। এই রাতের বেলায়, খোলা আকাশের নীচে দাঁড়িয়ে সে একটু বিরক্ত হয়েই ভ্রূকুটি করে জিজ্ঞেস করল, “র‍্যাপ্টর?”
“হ্যাঁ, তুমি এই শব্দটার মানে জানো?”
“হ্যাঁ।” ইলিনা মাথা নাড়ল। “এর মানে হল... একটা লোক যে রাতের বেলায় এসে বাচ্চাদের তুলে নিয়ে যায়।”
“কিডন্যাপার?”
“হ্যাঁ।”
“হুপিয়া?”
প্রশ্নটা শুনে ইলিনার সমস্ত ভাবভঙ্গীই পাল্টে গেল। “ওই শব্দটা উচ্চারণ করবেন না, ডক্টর।”
“কেন?”
“এখন হুপিয়ার কথা বলবেন না,” ইলিনা গভীর ভাবে বলল। প্রসব যন্ত্রণায় কাতর মহিলাটির আর্তনাদ শুনে সেদিকে একবার তাকিয়ে মাথাটা নাড়িয়ে বলল, “ওই শব্দটা এখন উচ্চারণ করাটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।”
“কিন্তু একটা র‍্যাপ্টর কি তার শিকারকে কামড়ে ফালাফালা করে দেয়?”
“কামড়ে ফালাফালা করে?” ইলিনা হতবুদ্ধি হয়ে বলল। “না, ডক্টর। ঠিক ওরকম করে না। র‍্যাপ্টর হল একটা লোক যে সদ্যজাত বাচ্চাদের তুলে নিয়ে যায়।” ইলিনাকে দেখে এই আলোচনার জন্য খুবই বিরক্ত বলে মনে হচ্ছিল, যত তাড়াতাড়ি পারে ও এই কথাবার্তার পাট শেষ করতে চাইছিল। ইলিনা আবার ক্লিনিকের দিকে ফিরে গেল। “যখন ও রেডি হয়ে যাবে আমি আপনাকে ডেকে নেব, ডক্টর। আমার মনে হয় আরও একঘণ্টা লাগবে, দু’ঘণ্টাও লাগতে পারে।”
ববি আকাশের তারার দিকে তাকাল, সমুদ্রের তীরে আছড়ে পড়া সফেন ঢেউগুলোর আওয়াজ শুনতে থাকল। অন্ধকারের মধ্যে দিয়ে দূরে নোঙর করা মাছ ধরা নৌকাগুলোর ছায়া দেখা যাচ্ছে। এই পুরো দৃশ্যপটটা কত শান্ত, কত স্বাভাবিক, এবার ওর ওই ভ্যাম্পায়ার আর বাচ্চাদের কিডন্যাপ করে নিয়ে যাওয়ার কথা বলার জন্য নিজেকেই বোকা বলে মনে হল।
ববি ওর ঘরে ফিরে গেল, ম্যানুয়েল ওই শব্দটা কোনও স্প্যানিশ শব্দ নয় বলে যে বারবার জোর দিচ্ছিল, সেই কথাটাই আবার মনে পড়তে লাগল। কৌতূহলে নয়, এমনিই ও ইংরেজি ডিকশনারিটা খুলে দেখল আর ওকে যেন অবাক করে দেওয়ার জন্যই এখানেও ওই শব্দটা খুঁজে পেল:
raptor \ n [deriv. of L. raptor plunderer, fr. Raptus]: bird of prey [র‍্যাপ্টর \ বিশেষ্য পদ (উৎপত্তি ল্যাটিন র‍্যাপ্টর প্ল্যান্ডারার থেকে, ফরাসিতে র‍্যাপ্টাস্‌): বার্ড অফ প্রেই—হিংস্র শিকারি পাখি]।
ক্রমশ...